সফটওয়্যার পাইরেসি বলতে বোঝায়, সফটওয়্যার নির্মাতার বিনা অনুমতিতে যেকোনো সফটওয়্যারের আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা বিক্রি করা এ ধরনের কার্যক্রমকেই বলা হয় সফটওয়্যার পাইরেসি। 

সফটওয়্যার পাইরেসি করা একটি অপরাধ মুলক কাজ। সফটওয়্যার পাইরেসি করা অন্যর কোনো জিনিস চুরি করার মতোই অপরাধ মুলক একটি কাজ।

 কোনো কোম্পানির সফটওয়্যার পাইরেসি যদি কেউ করে তাহলে সেই কোম্পানিটির আর্থিক লস হয়। 


পাইরেসি সফটওয়্যারের ভিতরে ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস থাকতে পারে, এসব পাইরেসি সফটওয়্যার ব্যবহার করার ফলেই কম্পিউটারের ডাটা চুরি হয় বা কম্পিউটারে লগইন থাকা সব একাউন্টের পাসওয়ার্ড চুরি হয় পাইরেসি সফটওয়্যারের মাধ্যেমেই। 


আজকের এ পোস্টে আপনাদেরকে জানাবো কিভাবে সফটওয়্যার পাইরেসি প্রতিরোধ করা যায়, তো চলুন শুরু করা যাক ........................

সফটওয়্যার পাইরেসি

১। সফটওয়্যার পাইরেসি থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য আইন মেনে চলা সর্বপ্রথম কাজ। 

কোনো ব্যাক্তির মধ্যে যদি আইন মানার এই কথাটি মাথায় থাকে তাহলে সে নিজের কম্পিউটার কখনোই পাইরেসি সফটওয়্যার ইনস্টল করবেনা।

 এবং যে পাইরেসি করবে তার মাথায় ও যদি আইন মেনে চলার বিষয়টি স্মরন থাকে তাহলে কখনোই সে কোনো সফটওয়্যার পাইরেসি করবেনা। 


২। আজকাল ঢাকার শহরের অনেক দোকানেই পাইরেটেড সফটওয়্যার বিক্রি করে আর কম্পিউটার ইউজাররাও দামে কম পেয়ে কিনে।

 একটি অরিজিনাল সফটওয়্যারের তুলনায় পাইরেটেড সফটওয়্যার ১০০ ভাগের ১ ভাগ মূল্যেই কিনতে পারছে বলে ইউজাররা পাইরেটেড কিনে।

 আমাদের মাথা থেকে পাইরেটেড সফটওয়্যার কিনে ব্যবহার করার ভূত দূর করতে হবে।

 এটা মনে রাখতে হবে সস্তার জিনিস পাস্তায়ই যায়। 



৩। আপনি যদি একজন দক্ষ প্রোগ্রামার হয়ে থাকেন আর আপনার যদি কোনো নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়, তখন যদি আপনার কেনার মতো টাকা না থাকে তাহলে আপনি সফটওয়্যার নির্মাতার বা সফটওয়্যার কোম্পানির সাথে কন্টাক্ট করে অনুমতি পেলে পাইরেসি করে ইউজ করতে পারেন।


৪। আপনি যখন কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করবেন তখন অবশ্যই ধৈর্য নিয়ে ট্রামস এন্ড কন্ডিশন পড়বেন।

 এবং যদি দেখেন সফটওয়্যার টি কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করেছে তাহলে সফটওয়্যার টি ব্যবহার করবেন না। 

এরপরও যদি ব্যবহার করেন তাহলে কিন্তু বিপদে পড়তে পারেন। 


৫। আপনি যদি কোনো অফিসে কাজ করে থাকেন তাহলে আপনাকে সেই অফিসের কম্পিউটারে সফটওয়্যার কিনে ব্যবহার করার জন্য উৎসাহিত করবেন।

  এবং পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করার ফলে কি কি বিপদ হতে পারে তা ভালোভাবে বুঝিয়ে বলবেন সবাইকে। 


৬। আমাদের দেশে এখনো সফটওয়্যার কিনে ব্যবহার করার জন্য তেমন সু্যোগ নেই।

 তাই আপনি পেইড সফটওয়্যারটির পরিবর্তে ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। 


৭। পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করলে কম্পিউটার টি ঝুকির মধ্যে থাকে, তাই কখনোই পাইরেসি সফটওয়্যার নিজে ব্যবহার করবেন না এবং অপরকে ও এর ক্ষতিকর দিক গুলো জানিয়ে দিন। 


৮। বর্তমানে পাইরেটেড সফটওয়্যার গুলো বেশীরভাগই ছড়ায় ইন্টারনেটের মাধ্যেমে।

 ইন্টারনেটে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যারা সফটওয়্যার পাইরেসে করে ছড়িয়ে থাকে সবার মাঝে এসব সাইট রিপোর্ট করে ব্লক করে রাখলেই পাইরেসি সফটওয়্যার কম ছড়াবে দেশে। 


৯। পাইরেসি প্রতিরোধের জন্য আমজনতার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

 পাইরেসি সফটওয়্যার ব্যবহার করার কুফল, সফটওয়্যার পাইরেসি করার আইনের ধারা ও শাস্তি সম্পর্কে জানাতে হবে সবাইকে। 

তাহলেই সফটওয়্যার পাইরেসি করা প্রতিরোধ করা সম্ভব।


১০। সফটওয়্যার যারা পাইরেসি করে বাজারে বিক্রি করতেছে বা যারা পাইরেসি করে বিনামূল্যে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে সবার মধ্যে। 

এমন কাজে জড়িত সবাইকে যদি পুলিশ ধরে আইনের আওতায় আনে তাহলেও কিন্তু দেশ থেকে সফটওয়্যার পাইরেসি অনেক কমে যাবে।

 দেশে যদি এমন একটি আইন চালু হয় যে, যার কম্পিউটারে পাইরেসি সফটওয়্যার পাওয়া যাবে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে তাহলে দেখবেন কেউ ভয়ে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করা বন্ধ করে দিচ্ছে। 

    

Share To:

Post A Comment:

0 comments so far,add yours