Breaking News:
আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম।

মোটরসাইকেল চালানোর নিয়ম - কিভাবে মোটরসাইকেল চালানো শেখা যায়?

মোটরসাইকেল চালানো বড় কোনো কঠিন কাজ নয়। 

আপনার যদি সাহস থাকে একটু আর যদি মোটরসাইকেলের যন্ত্রপাতিগুলোর কোনটির কি কাজ এবং কন্ট্রোল করার জিনিসগুলো সম্পর্কে আপনার একটু ধারনা থাকে তাহলেই আপনি মোটরসাইকেল চালাতে পারবেন।

 মোটরসাইকেল কিভাবে চালাবেন তা আমি ধাপে ধাপে সুন্দর করে বিস্তারিতভাবে এই পোস্ট বলবো, আশাকরি এটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার পড়ে অনেক কিছু জানতে পারবেন। 

এবং নিজে একটু প্রাকটিস করলেই বাইক চালানো শিখে যাবেন। 

মোটরসাইকেল চালানোর ৮ টি ধাপ নিচে দেওয়া হলোঃ 

১। প্রথমেই যে মোটরসাইকেলটি দিয়ে চালানো শিখতে চাচ্ছেন সেই মোটরসাইকেলটির ওয়েট অনুমান করুন, নিজেকে নিশ্চিত করুন যে আপনি এতোটুকু ওজন কন্ট্রোল করতে পারবেন।  

নতুন যারা বাইক চালানো শিখবেন তারা প্রথমে কোনো বড় ও বেশী ওজনের মোটরসাইকেল নিয়ে চালানো শিখতে যাবেননা। 


আপনার হাইটের তুলনায় এবং নিজের ওজনের চেয়ে যেনো মোটরসাইকেলটি কম হয়, এবং সেটা যেন নাড়াচাড়া করার জন্য আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমন একটি মোটরসাইকেল নিয়ে চালানোটা শিখতে পারেন। 

মনে রাখবেন একবার যদি আপনি মটরসাইকেল নিয়ে চালানো শিখতে পারেন এরপরে আপনি যেকোনো ধরনের মোটরসাইকেল চালাতে পারবেন। 



২। মোটরসাইকেলটি সাইড স্টান্ড করা অবস্থায় আপনি বামপাশে এসে ডানপা আগে দিয়ে মোটরসাইকেলে উঠুন।

 এরপরে বাম পায়ের কাছে সাইড স্টান্ড টা উঠান বাম পা দিয়ে। 

এবার আপনি আপনার মনে সাহস যোগান যে আপনি এটা চালাতে পারবেন। 


৩। মোটরসাইকেলের ডানপাশে ইন্জিনের কাছে তেলের চাবি রয়েছে সেটি যদি অফ করা থাকে তাহলে অন করে দিন। 

তেলের চাবি যদি বন্ধ করা থাকে তাহলে কিন্তু মোটরসাইকেলটি কয়েক মিনিট  চালানো প্রাকটিস করার পরেই মেশিন বন্ধ হয়ে যাবে। 


৪। প্রতিটি মোটরসাইকেলেরই একটা করে ইউনিক চাবি key থাকে, চাবিটি দিয়ে মোটসাইকেলটি অন করুন। 

মোটরসাইকেল চালানোর আগে অবশ্যই মোটরসাইকেল অন করতে হবে চাবি দিয়ে নয়তো মোটরসাইকেল স্টার্ট হবেনা। 


৫। মোটরসাইকেলটি নিউটাল কিনা দেখুন মিটারে। নিউটাল মানে হলো কোনো গিয়ার নেই। মোটরসাইকেলটিতে যদি গিয়ার দেয়া থাকে তাহলে মিটারে এন লেখাটি বামধারে দেখতে পাবেননা। অনেকসময় মোটরসাইকেল পার্কিং করে আসলে ছোট বাচ্ছারা মোটরসাইকেলের কাছে গিয়ে গিয়ার নিয়ে ও স্টার্ট করার হাতল নিয়ে খেলে তাই তারা না বুঝে গিয়ার ফেলিয়ে দেয়।

 কিন্তু আপনি গাড়ি অন করার পরে প্রত্যেক সময়ই চেক করে নিবেন গিয়ার দেয়া থাকলে গিয়ারটি উঠিয়ে নিন। 


৬। বাম হাতের ক্লাস চেপে ধরুন এবং এক্সেলেরেটর একটু বাড়িয়ে ডান পা দিয়ে মোটরসাইকেলের হাতলে কিক করুন, মোটরসাইকেলটি স্টার্ট করার জন্য। নতুন বাইক চালানো শিখলে আপনি পা দিয়ে কিক করে স্টার্ট করাই শিখুন এটিই ভালো হবে।

 অনেক মোটরসাইকেলে সেল বসানো থাকে যা ইলেকট্রিক মাধ্যেমে স্টার্ট হয় সুইচ টিপলেই কিন্তু এটিতে অভ্যাস্ত হবেন যখন আপনি পুরনো চালক হবেন। 


৭। মোটরসাইকেলটি স্টার্ট হওয়ার সাথে সাথেই সুন্দর একটা আওয়াজ শুনতে পাবেন মেশিনের। 

এক্সিলেটর বা পিকআপ একটু বাড়িয়ে ইন্জিনটি যাতে চলতে পারে এমন শক্তি যোগান।

 এবার ১মিনিট ইন্জিনটাকে গরম করে নেওয়া ভালো, এরপরে আপনি ক্লাস চেপে বাম পা দিয়ে একটি গিয়ার দিন। 

এখন ক্লাস অস্তে অস্তে ছাড়ুন সাথে সাথে ডান হাত দিয়ে এক্সিলেটর বা পিকআপ অস্তে অস্তে একটু বাড়ান তাহলেই দেখতে পাবেন বাইকটি সামনে আগাচ্ছে।

 আপনি পিকআপ কমিয়ে ফেললে ইন্জিন কমে যাবে যারফলে সামনে কম দৌড়বে আবার পিকআপ বাড়ালে দ্রুত চলবে। বাইক যখন দৌড়াবে তখন ক্লাস ধরে আরেকটি গিয়ার দিন এবং ক্লাস এবার অস্তে অস্তে ছাড়ুন। গাড়ির স্পিড আরো বেড়ে যাবে।


৮। মোটরসাইকেল ব্রেক করার জন্য বা মোটরসাইকেল থামানোর জন্য প্রথমে ক্লাস চেপে ধরে রাখুন এরপরে ডান পা দিয়ে অস্তে অস্তে পেছনের ব্রেকটি চেপে ধরুন দেখবেন মোটসাইকেল থামতে শুরু করেছে। 

এভাবেই আপনি একটি মোটরসাইকেল থামাতে পারেন।

 নতুন অবস্থায় সামনের ব্রেকটি ধরবেননা, সামনের ব্রেক যতো ভালো এবং ততোও কিন্তু খারাপ তাই পেছনের ব্রেক দিয়েই নতুন অবস্থায় থামাতে শিখুন। 


মোটরসাইইকেল চালানোর সময়ে খেয়াল রাখবেন যেনো নতুন অবস্থায় গাড়ির গতি ৩০ কি.মি এর উপরে না উঠে। 

নতুন সময়ে যাতে আপনার বাইকটি কন্ট্রোল করতে পারেন সামনে কিছু এসে পড়লে তাই এমন গতি নিয়ে মোটরসাইকেল চালান। 


মোটরসাইকেল চালানোর পূর্বে কিছু জিনিস পরিধান করতে ভুলবেননাঃ 

। হেলমেটঃ প্রানি বলেন আর মেশিন বলেন সবকিছুরই একটা মাথা রয়েছে যাকে ইংলিশে হেড বলে। সকল কাজ পরিচালনা করে এই হেড তাই এটির গুরুত্ব অনেক বেশী। 

মাথাটি দূর্ঘটনার হাত থেকে বাচাতে হেলমেট ব্যবহার করা প্রয়োজন। দুর্ঘটনার ফলে যেনো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মাথাটির কিছু না হয় এইজন্য হেলমেট পরিধান করতে হবে।  

এছাড়াও আপনি বাইক চালানোর সময়ে দেখবেন শরীরে প্রচুর বাতাস লাগে, এই বাতাসের কারনে চোখেও ভালোভাবে দেখতে পাওয়া যায়না।

 কিন্তু হেলমেট পরা থাকলে আপনাকে দেখতে বাধা দিতে ব্যার্থ হবে বাতাস। 


। গ্লাভসঃ আপনার হাতটিক দূর্ঘটনা থেকে বাচাতে পারে গ্লাভস।

 গ্লাভস পরিধান করা থাকলে আপনার হাতে কোনো আঘাত লাগবেনা গ্লাভস থাকার কারনে বা কম আঘাত লাগবে। তাই গ্লাভস পরায় অভ্যাস্ত হন। 


৩। বুটঃ কোনো সময়ই স্যান্ডেল পরে বাইক চালাতে যাবেননা, স্যান্ডেল পায়ে থাকলে আপনি তখন দুর্ঘটনায় পড়লে পায়ে আঘাত পেলে পা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

কিন্তু যদি বুট পরা থাকে তাহলে সমস্যা কম হবে, এছাড়াও শীতকালে বুট পায়ে থাকলে শীত কম লাগে। 

বুট পায় দিয়ে মোটরসাইকেল ভালোভাবে কন্ট্রোল করা যায়। 


৪। মোটরসাইকেল চালানোর পোশাক পরিধান করুনঃ মোটরসাইকেল চালানোর জন্য বিশেষ মোটা কাপড়ের জিন্স প্যান্ট ও গায়ে পরিধান করার জন্য স্যুট বা জ্যাকেট রয়েছে সেগুলো পরিধান করে মোটরসাইকেল চালানো ভালো। 


এই কয়টি গিয়ার অবশ্যই ব্যবহার করে বাইক চালাবেন এতে দুর্ঘটনা হলেও নিজেকে সেফ রাখতে পারবেন। 

0/Post a Comment/Comments