গরম ওয়েদারে সাইকেল চালানোর জন্য স্বাভাবিক পরিবেশের তুলনায় অধিক সতর্ক থাকতে হয়, আর নাহলে দূর্ঘটনায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

 যেমন সাইকেলিং করার সময় পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, পেটে অসুখ, এক্সিডেন্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। 

নিরাপদ ভাবে সাইকেলিং করার জন্য আপনাকে কিছু টিপস অনুসরণ করতে হবে তাহলে আপনি দূর্ঘটনায় পড়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকবে। 

Cycle

গ্রীষ্মের চকচকে সোনালী রোদে সাইক্লিং,
 Image Source: fortmyershop.com


১। হাইড্রেশনঃ 

গ্রীষ্মকালে সাইকেল চালোনো খুবই কষ্টকর একটি কাজ, খোলা রাস্তায় মাথার উপরে নেই কোনো ছায়া।

 গাড়ির মতো এসিও নেই এবং যন্ত্র বা মেশিন ও নেই নিজ শক্তিতে পথ অতিক্রম করতে হয় তাই গরমটা আরো বেশী অনুভব হয়। 

সাইকেল নিয়ে রাইড করার আগে প্রযাপ্ত পরিমানে পানি পান করে বিশ্রাম করে নিন এরপরে সাইকেলিং করতে বের হোন।

 সাইকেল বেশী সময় চালানোর প্রয়োজন হলে সাথে খাবার পানি রাখবেন, ১ ঘন্টা পর পর অল্পঅল্প করে ০.৫০ লিঃ বা ১লিটার পানি পান করেতে পারেন।

 এরফলে আপনার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে পানিশূন্যতা কিছুটা দূর হয়ে যাবে এবং আবার নতুন করে সতেজ হয়ে উঠবেন। 


২। খাবারঃ 

সাইকেল চালানোর পূর্বে হালকা পরিমানে খেয়ে তারপরে সাইকেল নিয়ে বের হবেন। 

সাইকেল নিয়ে দূরের কোনো স্হানে যেতে চাইলে সাথে কিছু হালকা খাবার রাখবেন, যেমনঃ ঠান্ডা পানি, নুডলস, ফল ইত্যদি।

 মনে রাখবেন সাইকেল চালানোর আগে বেশী খেলে পেটে ব্যাথা হতে পারে, আবার মাঝপথে এসে বাহিরের খোলা খাবার খেলেও পেটে সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

তাই নিজের সাথে কিছু হালকা পাতলা খাবার নিয়ে বের হবেন এবং পথে খিদে পেলে খেয়ে নিবেন অল্প করে। 


৩। ধীরে চালাবেনঃ 

সাইকেলে যেহুতু কোনো ইন্জিন বা মেশিন নেই তাই সাইকেল রাইডারের নিজ শক্তিতে সাইকেল চালাতে হয়। গরম আবহাওয় জোরে চালাতে গেলে বেশী ক্যালারি খরচ করতে হয়, 

আর বেশী ক্যালারি করার পাশাপাশি বেশি পরিশ্রম ও করতে হয় যারফলে বেশী ক্লান্তি আসে। 

আর আমরা জানি ক্লান্তি আসার কারন হলো শরীরে প্রচুর গরম অনুভব হওয়ার কারনে ঘাম বের হয়ে পানিশূন্যতা দেখা দেয় এরফলে ক্লান্তি আসে। 


আপনি যদি ধীরগতিতে সাইকেল রাইড করেন তাহলে আপনার শক্তি কম খরচ হবে, 

কম পরিশ্রম করতে হবে যারফলে আপনার শরীর হতে কম ঘাম বের হবে।এতেকরে আপনার শরীরে ক্লান্তি অনেক দেরিতে আসবে। এতে আপনি অনেক বেশী সাইকেল রাইড করতে পারবেন। 


৪। সানগ্লাস পরিধানঃ 

গরম আবহাওয় মানে গ্রীষ্মকালীন দিনে রাস্তাঘাট থাকে শুকনো তাই এই সময়ে প্রচুরপরিমাণে ধুলাবালি উড়ে রোডে। 

ধুলাবালির হাত থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সানগ্লাস/চশমা পরিধান করুন। 

এছাড়াও আপনি যদি সানগ্লাস ছাড়া সাইকেল রাইড করেন সেই সময়ে ধুলাবালি প্রবেশ করে চোখে না দেখতে পেয়ে রোডে অন্য গাড়ির সাথে এ্যাক্সিডেন্ট করতে পারেন, 

কিন্তু যদি গ্লাস পরে সাইকেল রাইড করেন তাহলে কিন্তু আপনি এ ধরনের দুর্ঘটনার ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে। 


৫। দিনের সবচেয়ে গরম সময়টি পরিহার করুনঃ

সকাল ১০ টা থেকা দুপুর ২টা প্রযন্ত এই সময়টাতে সূর্যের প্রখর তেজ থাকে।

 তাই এই সময়টাতে সাইকেলিং করলে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হবে এতে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন পানিশূন্যতা দেখা দিয়ে। 

তাই দিনের এই তীব্র অসহনীয় গরমের সময়টা বাদ দিয়ে সাইকেল চালান। সবচেয়ে বেশী ভালো হয় খুব সকাল বেলা ও বিকাল ৪টার পর সাইকেল রাইড করলে। 


৬। ঠান্ডা স্হানে সাইকেল থামাবেনঃ

বিরতি নেওয়ার জন্য ঠান্ডা ছায়াযুক্ত স্হান খুবই উপযোগী এটা সবাই ই জানি। 

আমাদের ক্লান্ত শরীরের জন্য একটু বিশ্রাম ও প্রয়োজন রয়েছে, 

সাইকেল রাইড করে ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার পরে একটা ঠান্ডা স্হান নির্বাচন করুন এবং সেখানে গিয়ে সাইকেল থামিয়ে কিছুক্ষনের জন্য বিশ্রাম নিন, 

এই সময়ে ঠান্ডা পানি পান করুন।


এবং গায়ের ঘাম গুলো টিস্যু বা রুমাল দিয়ে মুছে ফেলুন নয়তো আপনার সর্দিকাশি বা জ্বর ও হতে পারে।

 আর হ্যা সাইকেল চালানোর পর পরই না বিশ্রাম নিয়ে গোসল করবেন না,  তাহলে কিন্তু শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে।


৭। পিঠে ব্যাগ বহন করবে নাঃ

গরম আবহাওয়া পোষাক পরিধান করে থাকাই কষ্টকর সেখানে যদি পিঠে একটা ব্যাগ থাকে তাহলে তো কষ্ট আরো দ্বিগুণ হয়।

 আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য ফ্রেম ব্যাগ রাখতে পারেন সাথে। 

এতে সাইকেল চালিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ ও করবেন। 


৮। পানির ঝাপটা ও ঘামঃ

গরম ওয়াদারে কিছুক্ষন বা কয়েকঘন্টা সাইকেল চালানোর পরে ঘাম দেওয়া ও ক্লান্ত হয়ে পড়াই স্বাভাবিক। 

ঘাম দিলে আপনি বাইক থামিয়ে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিন ও শরীরের ঘাম মুছে ফেলুন,

 এতে আপনার অবসাদ দূর হয়ে যাবে। 


৯। অতিরিক্ত লুব্রিকেটিং পরিহার করুনঃ

অনেকেই মনে করেন যতোবেশী তৈল দেওয়া যায় চেইনে ততোই ভালো এই ধারনার বশবর্তী হয়ে তৈল ঢালতে থাকে অনেকেই বেশী করে। 

চেইনে তেল ব্যবহার করা হয় দ্রুত ও শব্দ বিহীন ভাবে চলার জন্য কিন্তু অতিরিক্ত তেল দিলে রাস্তার ধোলাবালিকে আকর্ষণ করে এতে চেইন সিল্পিং এর প্রবনতা বেশী বাড়ায়। 

এরফলে চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চেইন বার বার স্লিপ কেটে ছুটে যেতে পারে। 


১০। সিট পোস্টের দিকে খেয়াল রাখুনঃ

সাইকেল রাইডার যে সিটের উপরে বসে সাইকেল রাইড করে সেটিই হলো সিট পোস্ট। 

অনেকদিন সিট পোস্ট না খোলার কারনে সিট পোস্ট শক্ত হয়ে আটকে যেতে পারে তাই সপ্তাহে একবার সিট পোস্ট খুলে লাগাবেন। 


১১। পাংচার প্রবলেমঃ 

সাইকেল নিয়ে রাইড করার জন্য বের হওয়ার পরে মাঝ রাস্তায় এসে সাইকেলের টায়ারে তারকাটা

 বা কাটা প্রবেশ করার কারনে বা অন্য কোনো কারনে সাইকেল পাংচার হলে তখন আপনি সাইকেলের চাকায় মানে টায়ারে কাট বা তারকাটা আটকে থাকলে সেটি খুজে বের করে সাইকেলটিকে গ্যারেজে নিয়ে যান। 

গেরেজে নেওয়া প্রযন্ত এতে আপনার সাইকেলের চাকা মানে টাওয়ার ও টিউবটি সুরক্ষিত থাকবে। 



   

Share To:

Post A Comment:

0 comments so far,add yours