আমরা যখন ঘুমিয়ে যাই তখন আমরা মৃত লোকের মতো পড়ে থাকি।

আমাদের শরীরের কার্যক্রম চলতে থাকে তারপরও আমরা ঘুমানোর পরে কোনো খেয়াল বা হুশ থাকেনা। মৃত লাশ যেমন কিছুই দেখেনা, তার সাথে যা হয় তাও কিছু দেখেনা তদ্রুপ একজন ঘুমন্ত ব্যাক্তিও কিন্তু।

 তার কোনো খেয়াল বা হুশ থাকেনা যার ফলেই চোরে কোনো ঘৃহ ঘর চুরি করতে পারে, দরজার লক ভেঙে। চোরে জানে ঘুমন্ত মানুষ কিছুই দেখতে পাবেনা মৃত লাশের মতো পড়ে রয়েছে তাই চুরি করতে অসুবিধে হবেনা।

 (বিদ্রঃ আমি এখানে মৃত ব্যাক্তির হুশ থাকেনা বলতে লাশকে বুঝিয়েছি কিন্তু আত্বাকে নয়।

 আর আমি উদাহরন সরুপ চুরি করা যায় ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় এই উদাহরণ টি আমি শুধু বিষয়টি বোঝানোর জন্য বলেছি।)


মানুষের জীবনে ঘুমের প্রয়োজন অনেক, ঘুমের ফলেই মানুষ কাজ করার জন্য নতুন করে এনার্জি ফিরে পায়। ঘুম হলো আল্লাহর একটি নেয়ামত, এটি টাকা দিয়ে ক্রয় করা যায়না। 

পৃথিবীতে যতোগুলো শান্তি রয়েছে তার মধ্যে ১টি হলো ঘুম। 

সারাদিন মাথাভাঙ্গা বা হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পরে দিনশেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ার পড়েই রাত শেষে নামাজ পড়তে উঠে দেখি, আমাদের সকল ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।

 তাহলে চিন্তা করুন ঘুম কতো উপকারী মানুষের বেচে থাকার জন্য।

অনেক ধনী ব্যক্তি রয়েছে দেখবেন তাদের কাছে সুন্দর নারী আছে, বাড়ী আছে, টাকা আছে মাগার রাতে ঘুম নেই, হাজারো টিপস ফলো করেও ঘুম আসেনা চোখে লাস্টে ঘুমের ঔষধ খেয়ে জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা করে।

 যাহোক আমি মুল বিষয়ে ফিরে যাই, আমরা ঘুমিয়ে গেলে কিছু সময়ের জন্য মৃত লাশের মতো পড়ে থাকি।

এই ঘুম থেকে যে আমরা আবার জাগতে পারবো এমন গ্যারান্টি কিন্তু নাই।

 আর আমরা যদি আমাদের গোনাহ গুলো মাফ না চেয়েই মৃত্যবরন করি তাহলে কিন্তু আমাদের পাপের শাস্তি পেতেই হবে।

 তাই ঘুমানোর আগে তওবা করতে হবে এবং দোয়া পড়ে ঘুমাতে যেতে হবে এবং ঘুম থেকে জেগে উঠার সৌভাগ্য দান করলে উঠে আবার দোয়া পড়তে হবে। 


হজরত হুযাইফাহ রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের বেলায় নিজ বিছানায় শোয়ার (ঘুমানোর আগে) সময় নিজ হাত গালের নিচে রাখতেন।

অতঃপর বলতেন-‏ اَللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া। অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আপনারই নামে মরে যাই আবার আপনারই নামে জীবন লাভ করি।

’আর যখন (ঘুম থেকে) সজাগ হতেন, তখন বলতেন-الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

উচ্চারণ- ‘আলহামদু লিল্লাহিল লাজি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

অর্থঃ ‘সব প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করেছেন এবং তার দিকেই আমাদের পুনরুত্থান। 

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবির ঘুমানোর এ ছোট্ট আমলটি নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। 

Share To:

Post A Comment:

0 comments so far,add yours