Breaking News:
আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম।

স্ত্রী সহবাসের পূর্বের দোয়া : মিলনের পূর্বে যে দোয়াটি পড়বেন

আল্লাহ তায়ালা নারী এবং পুরুষদের বিবাহের মাধ্যমে যৌন কাজ বা বংশ বৃদ্ধিকে কল্যাণের কাজে পরিনত করে দিয়েছেন। 

 বিবাহের পরে আপন স্ত্রীর সঙ্গে যাবতীয় বৈধ যৌন কার্যক্রম হয়ে উঠে কল্যাণকর ও ছওয়াবের কাজ। 

অর্থাৎ যখন কোনো যুবক যুবতী বিবাহ সম্পন্ন করে, এরপরে তারা যদি যৌন কাজ করে, তাহলে তা হবে ছওয়াব, তবে সেটা হতে হবে বৈধ পদ্ধতিতে।

 এবং মিলনের পূর্বেই দোয়া পড়ে নিতে হবে যাতে শয়তান কাছে আসতে না পারে। 

যদি দোয়া না পড়ে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস শুরু করে দেন তাহলে সেখানে শয়তান নিঃসন্দেহে আসবেই, আর শয়তান যদি উপস্থিত থাকে তাহলে সে কতোভাবে প্যাচ লাগানোর চেষ্টা করবে তা চিন্তা করে দেখুন।

 মিলনের ফলে বংশবৃদ্ধি ঘটে, সবাই ই চায় তাদের ছেলেটি বা মেয়েটি যেনো ভালো হয়।

 কিন্তু আপনারা যদি সহবাস করার পূর্বে শয়তান না তাড়িয়ে সহবাস করেন তাহলে আপনার ছেলে বা মেয়ে জন্মগ্রহণ করার পরে সে ততোটা ভালো হবেনা। 


রাসুল (সাঃ) সাহাবীদের বলে গিয়েছেন যে, যখন তোমরা তোমাদের আপন স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস বা মিলন করবে তার পূর্বে দোয়া পড়বে। 

এরফলে তোমাদের কাছে শয়তান আসতে পারবেনা ,এবং তোমার যে সন্তানটি দুনিয়াতে আসবে সে ও তার কাছেও শয়তান যাবেনা। 

দোয়টি بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

 উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা। 

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তোমার নামে আরম্ভ করছি,  তুমি আমাদের নিকট হতে শয়তানকে দূরে রাখ। 

আমাদের এ মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে,  তা হতেও শয়তানকে দূরে রাখ।



স্ত্রীর সহবাসের কিছু নিয়ম আছে, যেগুলো একজন মুসলিম ব্যাক্তির ফলো করা উচিৎ,  নিয়মগুলো হলোঃ 

  •  ১। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পাক পবিত্র থাকবে মিলনের পূর্বে।
  • ২। "বিসমিল্লাহ" বলে সহবাস শুরু করা মুস্তাহাব, ভুলে গেলে যদি বীর্যপাতের পূর্বে স্মরণ হয় তাহলে মনে মনে পড়ে নিতে হবে।
  • ৩। সহবাসের পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করা। যা আল্লাহর রাসুলের সুন্নাত।
  • ৪। সব ধরনের দুর্গন্ধ জাতীয় জিনিস পরিহার করা। ধূমপান, মধ্যপানের কিংবা অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়,আর এতে কামভাব কমে যায়।
  • ৫।  কেবলামুখি হয়ে সহবাস না করা।
  • ৬। একেবারে উলঙ্গ না হওয়া।
  • ৭। স্ত্রীকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দান করার পূর্বে বিচ্ছিন্ন না হওয়া।
  • ৮। বীর্যপাতের সময় মনে মনে নির্ধারিত দোয়া পড়া, কেন না যদি সে সহবাসে সন্তান জন্ম নেয় তাহলে সন্তান শয়তানের প্রভাব মুক্ত থাকবে।
  • ৯। স্ত্রীর হায়েজ-নেফাসের (ঋতুকালীন) সময় সহবাস না করা।
  • ১০।  চন্দ্র মাসের প্রথম এবং পনের তারিখ রাতে মিলিত না হওয়া।
  • ১১। স্ত্রীর জরায়ুর দিকে চেয়ে সহবাস না করা। 
  •  ১২। বিদেশে বা সফরে যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রী সহবাস না করা।
  • ১৩। সহবাসের সময় স্ত্রীর সহিত বেশি কথা না বলা।
  • ১৪।  জোহরের নামাজের পরে স্ত্রী সহবাস না করা।
  • ১৫। ভরা পেটে স্ত্রী সহবাস না করা।
  • ১৬। উল্টাভাবে স্ত্রী সহবাস না করা।
  • ১৭।  স্বপ্নদোষের পর গোসল না করে স্ত্রী সহবাস না করা।


0/Post a Comment/Comments